নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের হলদিবাড়ী হাটে সাকিল আহাম্মেদকে (২৫) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম (৪৮) সেচ্ছায় আদালতে জামিন নিতে গেলে আদালতের বিচারক শোনানী শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কোর্ট ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হত্যা মামলার অভিযুক্ত প্রধান আসামী রফিকুল ইসলাম ভানোর ইউনিয়ন আওয়ামীলগের সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের হলদিবাড়ী হাটে তুচ্ছ ঘটনায় সাকিল আহম্মেদ (২৫) নামের ভানোর ইউনিয়ান মৎস্যজীবি লীগের সভাপতিকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ভানোর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম (৪০) সহ ২০ জনকে আসামী করে নিহতের ভাই ও ভানোর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাহিদ আলম বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।
সাকিল আহাম্মেদকে পিটিয়ে হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামী ভানোর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম হাইকোটে জামিনের আবেদন করলে মহামান্য হাইকোট ডিভিশন ব্যঞ্চের বিচারক তাকে দুই সপ্তাহের মধ্য নিম্ন আদালতে আত্মসমপণ করার আদেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত মামলার আসামী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সেচ্ছায় জামিনের জন্য বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হলে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ উভয় পক্ষের আইনজীবিদের নিকট শোনানী শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তৎসঙ্গে ভিক্টিমের যখমী সনদপত্র, ময়না তদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদনসহ অন্যন্যে আহতদের যখমী সনদ পত্র
আগামী ১৬ নভেম্বর পরবর্তী মামলার ধার্য্য তারিখে তদন্তকারী ডিবি পুলিশের এসআই সুলতান আলীকে স্ব-শরীরে উপস্থিত হাজির করার আদেশ প্রদান করেন। উভয় পক্ষের আইনজীবিরা হলেন- বাদী পক্ষের সিনিয়র আইনজীবি আলহাজ্ব সৈয়দ আলম, জয়নাল আবেদীন, রুহুল আমীন। রাষ্ট্র পক্ষের পিপি ছিলেন- সিনিয়র আইনজীবি সেকর চন্দ্র।
আসামী জামিনের পক্ষে ছিলেন- সিনিয়র আইনজীবি ইউসুফ আলী, এ্যাডভোকেট আবেদুর রহমান, এ্যাডভোকেট মীর আফজালুর রহমান।
উল্লেখ্য যে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হলদিবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম দেলোয়ার হোসেন গত ১৯ আগস্ট শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে খুতবায় একটি বাক্যের উচ্চারণ করাকে কেন্দ্র করে মসজিদের মুসল্লিদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে শাহিদ আলম ও স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আব্দুর রহমানসহ কয়েকজনের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি হয়। এঘটনায় সাহেদ আলম বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় ২ সেপ্টেম্বর রাতে ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে মারপিটের অভিযোগে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৩ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে দু'পক্ষের মধ্য সংঘর্ষের সৃষ্টি হলে এতে ইউনিয়ন যুবলীগগের সাধারণ সম্পাদক সাহিদ আলম (৩০) ও তার ছোট ভাই ভানোর ইউনিয়ন মৎস্যজীবীলীগের নেতা সাকিল আহম্মেদ (২৫) গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করে। পরদিন রোববার সকাল সাড়ে ৭ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাকিল আহম্মেদের মৃত্যু হয়। সেখানে লাশের ময়না তদন্ত শেষে তার লাশ গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়। নিহত সাকিল আহম্মেদ হলেন- উপজেলার হলদিবাড়ী গ্রামের মরহুম সামশুল হক অরফে কুসমতদ্দীনের ছেলে ও ভানোর ইউনিয়নের মৎস্যজিবীলীগের নেতা। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ভানোর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামসহ ২০ জনকে আসামি করে নিহতের ভাই ও ভানোর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাহিদ আলম বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে এই মামলার অভিযুক্ত ২০ জন আসামীর মধ্য ৮ জন আসামীকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে আদালতের বিচারকের নিকট হাজির করা হলে আদালতের বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
এব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খায়রুল আনাম বলেন, বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি ডিবি ব্রাঞ্চে হস্তান্তর করা হয়।