নিজস্ব প্রতিবেদক: ঠাকুরগাওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চরকডাঙ্গী পুকুরে মাছ চুরির অপবাদে ফইজুল ইসলাম (১৮) নামের এক কিশোরকে তুলে নিয়ে গিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তার শহীদ মিনার চত্বোরে এলাকাবাসীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করে।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন- আমতলা গ্রামের বাসিন্ধা আলহাজ্ব শামসুজোহা, রফিজুল ইসলাম, আনসারুল ইসলাম ও নির্যাতিত ফয়জুর ইসলামের মাসহ এলাকার আরো অনেকেই। এসময় বক্তারা এহেন কর্মকান্ডের জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় নেওয়ার দাবী জানান।
উল্লেখ্য যে, উপজেলার চরকডাঙ্গী গ্রামে পুকুরে মাছ চুরির অভিযোগে ফইজুল ইসলাম নামের এক কিশোরকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পুকুর মালিক আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গীর উপজেলার মহিষমারী গ্রামের আলিম উদ্দীনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক চড়কডাঙ্গী গ্রামে পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষাবাদ করে থাকলে অজ্ঞাত চোরেরা প্রায় রাতের অন্ধকারে তার পুকুরে মাছ চুরি করে নিয়ে যেতো। সে মাছ চোরকে ধরতে অভিনব কায়দায় পুকুরের পার্শ্বে আড়াল করে থাকে আসার এক পর্যায়ে গত শুক্রবার ভোর রাতে আমতলা গ্রামের মফিজ উদ্দীনের ছেলে ফইজুল ইসলামসহ তিনজন মিলে তার পুকুরে জাল টানে মাছ ধরার সময় পুকুরের মালিক আব্দুর রাজ্জাক চোরদের ধাওয়া করে ফয়জুল ইসলামকে হাতে নাতে ধৃত করলেও বাকী দুজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
ধৃত মাছ চোর ফইজুল ইসলামকে সে তার মহিষমারী গ্রামে নিয়ে গিয়ে মাছ চোরের শরীরে কাটা ছেড়া করে। একপর্যায়ে তার শরীরে প্রচন্ড রক্তপাত হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামকে খবর দেয় রাজ্জাক। পরে তাকে ইউপি সদস্যের পরামর্শে বালিয়াডাঙ্গী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ব্যপারে পুকুর মালিক আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমার পুকুরে দীর্ঘদিন যাবৎ মাছ চুরি হচ্ছিলো। কয়েকদিন যাবৎ রাতে পাহারা করছি। শুক্রবার ভোর রাতে ফইজুলসহ তিনজনে জাল দিয়ে মাছ তুলছিলো। আমি ফইজুলকে ধরে ফেললে দু'জন পালিয়ে যায়। পরে সে আমাকে ধাক্কা ধাক্কী করে পালিয়ে যাওয়ার সময় আমি তাকে আবারও ধরে ফেলি। পরে তাকে নিয়ে স্থানীয় থানা পুলিশের নিকট নিয়ে গেলে পুলিশ তাকে ইউপি চেয়ারম্যানকে জমা দিতে বলেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুলকে বিষয়টি জানালে তিনিসহ ফইজুলকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি এবং চিকিৎসার খরচ বহন করি।
ইউপি সদস্য রফিকুুল ইসলাম জানান, ফইজুলের শরীরের বিভিন্ন যায়গার কাটা ছেড়া দেখে আমি তাৎক্ষনিকভাবে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাই। ফয়জুলের প্রচুর রক্তক্ষরনের ফলে মৃত্যুর আশংঙ্খা ছিল।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহবুব আলম জানান, ফইজুলের একটি কান কাটা ছিল। সেই সঙ্গে তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর কাটা যখম থাকায় সেই কাটা যখমী জায়গা শেলাই দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, এঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার মানুষ বিক্ষোভে ফুঁসে উঠে সোমবার দুপুরে বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তার শহীদ মিনার চত্বোরে এলাকাবাসীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করে।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এহেন কর্মকান্ডের জড়িতদের
অবিলম্বে আইনের আওতায় নেওয়ার দাবী জানান।
এ ব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি খায়রুল আনাম বলেন, 'ফয়জুল ইসলামকে রক্তাক্ত অবস্থায় থানায় নিয়ে আসে। পরে এখান থেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'