ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পাটিয়াডাঙ্গী এলাকার চা চাষি কুতুব উদ্দিনের প্রায় ২ টন কাঁচা চা পাতা রাস্তায় নষ্ট হচ্ছে। কোম্পানীর ভূলে নষ্ট হচ্ছে চা চাষিদের কাঁচা পাতা
নিজস্ব প্রতিবেদক:দেশের চর্তুথতম চা উৎপাদনের জেলা হিসেবে পরিচিত ঠাকুরগাঁওয়ের চা চাষিরা কাঁচা পাতা নিয়ে বিপাকে পরেছেন। চা কোম্পানী চাষিদের কাঁচা চা পাতা সংগ্রহ করার অনুমতি দিয়ে এখন পায়তারা শুরু করেছেন। চাষিরা সঠিক ভাবে কাঁচা চা পাতা সংগ্রহ করেলেও কোম্পানী তা নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন ভূক্তভূগি চা চাষিরা। প্রায় অর্ধ শতাধিক চাষি বলেন, কোম্পনীর সাথে কথা বলে তারা কাঁচা পাতা সংগ্রহ করেছেন কিন্তু কোম্পানী তা নিচ্ছেন না এতে রাস্তায় নষ্ট হচ্ছে ৪০ টন কাঁচা চা পাতা।
বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার পাটিয়াডাঙ্গী এলাকায় রাস্তায় কাঁচা চা পাতার স্তুপ দেখা দেখা গেছে। যা চুক্তি অনুযায়ি চাষিদের কাছ থেকে গ্রীণ ফিল্ড চা কোম্পানী নেওয়ার কথা থাকলেও নেয়নি ফলে রাস্তায় পরে আছে। এতে চাষিরা আর্থিক ভাবে ক্ষতি গ্রস্ত হচ্ছেন।
জানাযায়, চা চাষের উর্বর ভুমি হিসেবে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া পরেছে ঠাকুরগাঁওয়ে। এর ফলশ্রুতিতে জেলঅতে ক্ষুদ্র ও মাঝারী চা চাষী তৈরী হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারী পর্যাযে চা চাষের ব্যাপক আবাদ শুরু হলে বালিয়াডাঙ্গীর শাহবাজপুরে গ্রীণ ফিল্ড টি ইন্ডাষ্ট্রিজ নামে ২০১৭ সালে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠি হয়। শুরুতে চা চাষে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য চা গাছের চারা লোন দেওয়া হয়। এতে চা চাষীর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে জেলায় ক্ষুদ্র ও মাঝারী চা চাষীর সংখ্যা প্রায় ২শতাধিক।
চাষিদের দাবী চা বোর্ডের নির্ধারিত দরে চাষীদের মূল্য দেওয়া হয় না। চাষীদের জিম্মি করে রাখা হচ্ছে। স্বেচ্ছাচারীতার মনোভাবে দাম লাগানো হচ্ছে। পঞ্চগড়ে চা পাতার দাম ১৬ টাকা ৮০ পয়সা। অন্যদিকে গ্রীণ ফিল্ড টি ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড প্রতিকেজি চা পাতার দাম দিচ্ছে ১২ টাকা। এছাড়াও চা পাতা থেকে ৪০% থেকে ৫০% পাতা কেটে নেওয়া হচ্ছে। যা চা চাষীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। শুরুতে চাষীদের সাথে ভাল ব্যবহার করলেও দিনে দিনে কারখানার মালিক ও ম্যানেজারের ব্যবহার খারাপ হতে থাকে।
চাষীরা আরো জানান, চা চাষীরা দীর্ঘদিন যাবৎ চা পাতার টাকা পাচ্ছেন না। সামনে ঈদ চা শ্রমিকদের বিল বেতন দিতে পারছেন না চা চাষীরা। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও কারখানটি টাকা প্রদানের ব্যপারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।সদর উপজেলার পাটিয়াডাঙ্গী এলাকার চা চাষি কুতুব উদ্দিন বলেন, প্রায় ৩ একর জমিতে চায়ের চাষ করেছি। নিয়মিত বালিয়াডাঙ্গীর শাহবাজপুরে গ্রীণ ফিল্ড টি ইন্ডাষ্ট্রিজে কাঁচা চা পাতা দিয়ে থাকি। গত ৩ দিন আগেও চা পাতা দিয়েছি। অর্ধেক নিয়ে যাওয়ার পরে আর অধেক নিয়ে যায়নি। ফোনে জানিয়েছে আর নিবে না। আমার মত অনেক চাষি আছে যারা চা পাতা কেটেছে কিন্তু দিতে পারছে না। রাস্তায় নষ্ট হচ্ছে চা পাতা। এতে চা চাষিরা আর্থিক ভাবে ক্ষতির মুখে পরেছি। জেলায় ১টি মাত্র চা কারখানা থাকায় আমাদের চা চাষিদের উচ্ছেমত ব্যবহার করা হচ্ছে।
বালিয়াডাঙ্গীর লাহিড়ী এলাকার চা চাষি আবুল কালাম আজাদ (মানিক) বলেন, আমরা কাঁচা চা পাতার সঠিক দাম পাচ্ছি না, তাদের কাছে ভাল ব্যবহারও পাচ্ছি না। তারা চা চাষীদের সংগে প্রাায় খারাপ ব্যবহার করছে। গ্রীণ ফিল্ড টি ইন্ডাষ্ট্রিজের মালিক নীল চাষীদের মতো আচরণ করছে চা চাষিদের সাথে।
গতবুধবার রাতে ক্ষতিগ্রস্ত চা চাষীরা চা চাষী কল্যাণ সমিতির নামে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে মোমিনুল ইসলাম সুমনকে-আহবায়ক ও আবু শাহীনকে সদস্য সচিব করে জনকে যুগ্ম আহবায়ক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এ সংগঠনটির নাম করণ করা হয় "বালিয়াডাঙ্গী চা চাষী কল্যাণ সমিতি"।
বালিয়াডাঙ্গীর শাহবাজপুরে গ্রীণ ফিল্ড টি ইন্ডাষ্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুল ইসলাম হিরুকে না পেয়ে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও রিসিভ করেননি। তবে তিনার ম্যানেজার সাজু ইসলাম বলেন, কর্তৃপক্ষ লিখিত বক্তব্য তৈরি করছে যা দ্রুত সময়ে দেওয়া হবে।