যে কারণে অদ্বিতীয়া জয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক ০২ জুলাই, ২০১৯ ১১:৪৫ বাংলাদেশ ১০৭১
যে কারণে অদ্বিতীয়া জয়া
ডেক্স নিউজ: 
দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসানের জন্মদিন ১ জুলাইদিনটি উপলক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভেচ্ছায় ভাসছেন এ অভিনেত্রীতবে, এমন বিশেষ দিনেও শুটিংয়েই ব্যস্ত তিনিআপন অভিনয়শৈলীতে দুই দশক ধরে মাতিয়ে রেখেছেন দর্শক মনবৈচিত্রপূর্ণ চরিত্র এবং অভিনয়গুণে দুই বাংলাতেই নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্যমাত্রায়স্বীকৃতির ঝুলিতে ইতিমধ্যেই জমেছে একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ভারতের ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ডসহ অনেক কিছুচল্লিশের কোঠা পেরিয়েও গ্ল্যামারে ও অভিনয়ে নিজেকে করেছেন অদ্বিতীয়াকি তার সেই জাদু? যে নির্মাতাদের হাত ধরে তার অন্যতম সেরা কাজগুলো দর্শকের কাছে পৌঁছেছে; গ্লিটজের জিজ্ঞাসা ছিলো তাদের কাছেই..
মেথড অ্যক্টিংয়ে তার পারঙ্গমতা রীতিমতো বিস্ময়কর
নাসির উদ্দিন ইউসুফ
জয়া এই মুহুর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিভাবান শিল্পীসবচেয়ে সেলিব্রেটেড মানুষ ভারত ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেসুতরাং তার একটা বড় ভূমিকা আছে দুই বাংলায়অভিনয়ের একটা ভিন্ন স্বাদ তৈরি করতে পেরেছে জয়াতার অভিনয়ের যে জায়গাটা মনে হয়েছে-অনেক বেশি অর্গানিক, অর্গানিক কাজ করে সেগেরিলাকরার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, অনেক বেশি অনুসন্ধিৎসুঅনেক চিন্তা ভাবনা করে চরিত্র নিয়েঅনেক গভীরে থাকে, পৃথিবীর সকল কিছু ভুলে গিয়ে অভিনয়টা করতে পারেএটা সবার হয়নাএ জন্যই সে এতটুকু এসেছেহয়তো গেরিলার মধ্য দিয়ে পথচলা শুরু হয়েছে, কিন্তু গেরিলাকে পিছে ফেলে সে অনেকদূর এগিয়ে গেছেআমি মনে করি, সে ওয়ান অব দ্য মোস্ট সাকসেফুল এক্টর অব বাংলা সিনেমামিশ্র রকমের অভিনয় করেছে, মিশ্র চরিত্রে অভিনয় করেছে এবং মেথড অ্যক্টিংয়ে তার পারঙ্গমতা রীতিমতো বিস্ময়কর ব্যাপারঅত্যন্ত মনোযোগি শিল্পী আমি বলতে পারি
এরকম একজন আর্টিস্টের অভাবটা যে কেউ অনুভব করবে
নুরুল আলম আতিক
আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা সেজন্মদিনের শুভেচ্ছা থাকলোআরও ভালো কাজ তার কাছ থেকে প্রত্যাশাতার যে যত্নশীল চেষ্টা, অভিনয়ের জন্য যে প্রেম সেটা জারি থাকুকপ্রথমত কাজের বেলায় সে অনেক যত্নশীল, সেনসিবলধীরে ধীরে সে নিজেকে যে জায়গায় নিয়ে গেছে সেটা ঈর্ষণীয়, যে কারো জন্য এটা শিক্ষনীয়তার সঙ্গে আমার কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বলবো, সে খুবই হেল্পফুল-কোআর্টিস্ট বলি, ইউনিট মেম্বারদের প্রতি বলিএটা আমাদের এখানে ইন্ডাস্ট্রিটা সে জায়গায় নেই বলে এটা হয়তো খুব প্রয়োজন ছিলো বা এখনও ফুরায়নাইপরবর্তিতে ও যখন আরও বড় প্রোডাকশান করতে যায় অন্যরা নিশ্চয়ই তার এই যত্নশীল চেহারা দেখে অবাক হয়ে থাকবে, তার প্রফেশনাল চেহারা স্পষ্ট হয়ে দেখা দেবেযখন আমরা একসাথে কাজ করি, তখন ওই সময়ের সংকট অতিক্রমের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ার একটা ব্যাপার ছিলোঝাঁপিয়ে পড়ার এই উদ্যোগ নেয়ার দিক থেকে সে প্রথম সারিতে থাকবেএরকম একজন আর্টিস্টের অভাবটা যে কেউ অনুভব করবে
একজন প্রফেশনাল এবং সেনসেবল অভিনেত্রী
গিয়াস উদ্দিন সেলিম
জয়ার সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি জয়া একজন প্রফেশনাল এবং সেনসেবল অভিনেত্রীযতদূর মনে পড়ছে আমি সংশয়নামে একটি সিরিয়াল করেছিলামওখানে ও তন্দ্রা নামে একটা চরিত্র করেছিলোএকটা কান্নার সিকোয়েন্সে ও গ্লিসারিন ছাড়াই কেঁদেছিলোও আসলে গ্লিসারিন ছাড়া কাঁদতে পারতোএটা আমাকে ভীষণ অবাক করেছেএমনিতে মানুষ হিসেবেও জয়া অনেক ভালোআমি তার সাফল্য কামনা করি
মনে হয় সে আমার চরিত্র, যাকে আমি লিখেছি
মেজবাউর রহমান সুমন
আমি খুব বেশিদিন টেলিভিশনের জন্য কাজ করিনিকিন্তু চার বছরে যে কাজগুলো প্রশংসিত হয়েছে তার সবগুলোতেই জয়া ছিলোনতুন নির্মাতা হিসেবে তখন একজন প্রতিষ্ঠিত আর্টিস্টের সঙ্গে মিশে যাওয়া আমার জন্য কঠিন ছিলোকিন্তু জয়ার ক্ষেত্রে তা হয়নিঅতি সহজেই মিশে যাওয়ার ব্যাপারটা থাকে তার মধ্যেএকজন পারফর্মার হিসেবে এটা তার অনেক বড় পাওয়ারএখন ওর সঙ্গে আড্ডা হয়, কথা হয় প্রায়ইনতুন কোন চরিত্রের ক্ষেত্রে জয়া একদম মিশে যায়, শুটে গিয়ে শুধু অ্যাক্টিং করবে এ জায়গাটায় ও থাকে নাআমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক কম্ফোর্ট পাই যখন আমার সেটে জয়া থাকেআমার কখনো মনে হয়না ও পারফর্মারও যখন আমার সেটে থাকে আমার মনে হয় সে আমার চরিত্র, যাকে আমি লিখেছি, মনে হয় আমার পাশের মানুষ, পাশের বন্ধুটাআমার মনে হয় সব জায়গাতেই জয়া এরকমযেখানে কাজ করতে যায়, ওর পরিবেশটা ও নিজের মতো করে তৈরি করে নেয়এটা জয়ার সবচেয়ে পাওয়ারফুল জায়গাযে জায়গা থেকে জয়া থেকে জয়া কাজ শুরু করেছিলো সে জায়গা থেকে জয়া উত্তোরত্তর সাফল্য পাচ্ছেআমরা তার কাজে মুগ্ধ হইআরও হতে চাইকেননা জয়া আরও ভালো কিছু করতে সক্ষমতার সেই জীবনীশক্তি আছে
কোন স্টারিজম নয়, তার পা মাটিতে
মাহমুদ দিদার
এটা আসলে খুব দুরূহ, তাকে বর্ণনা করাউনি যখন সংলাপ দেন, চারপাশ এমনিতেই সাইলেন্ট হয়ে যায়শি গট লস্ট ইন্টু দ্য ক্যারেক্টার’- আপনার এমনিই দেখতে ইচ্ছে করবেকোন গল্পের এম্পিরিকাল স্টাডি’(বাস্তব অনুশীলন) ছাড়া তিনি কাজ করেন নাআমরা চেরী ফুলের নামে নামনামে একটা ফিকশন করিচেরী থাকতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেসেই ভ্রাম্যমান বালিকার গল্পসেই চেরীকে ধরার জন্য তিনি একাধিক দিন উদ্যানে গেছেন, হেঁটেছেন, শূণ্যে তাকিয়েছেন, কোলাহল দেখেছেন, মধুর ক্যান্টিনে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ বসেছেনমিষ্টি খেয়েছেনবিউটি সার্কাস’-এর অফ স্ক্রিন প্রিপারেশনও দারুণসার্কাসে গিয়েছেন, সেটা একেবারে স্ক্রিপ্ট পর্ব থেকেথেকেছেন, মিশেছেন, দারুণ শিক্ষকের মতো, কর্মীর মতো, স্থির, ধৈর্য্যের শিক্ষাও তার কাছ থেকে পেতে পারি আমরাকোন স্টারিজম নয়তার পা মাটিতেআপনি যা খাবেন, তিনি তাইই খাবেন, এমনও হয়েছে খাবার নাই- কাঁচা টমেটো খেয়েও শট দিয়েছেন, বেঘোর জ্বর নিয়েও শুট করেছেন- তাও বৃষ্টির দৃশ্য! শি ইজ সো ডিটেল, মাচ কম্প্রিহেন্সিভতিনি সেরা আমার চোখে এবং তাই সময়কে তিনি জিতে নিয়েছেন
 

প্রিন্ট