weather ২৭.৯৯ o সে. আদ্রতা ৮৯% , শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সার ও ডিজেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি আমন ও শীতের সবজি আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ঠাকুরগাঁওয়ের ১০ লাখ কৃষক

প্রকাশ : ১৩-০৮-২০২২ ১৯:১০

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ হঠাৎ করে সার ও ডিজেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ঠাকুরগাঁও জেলার দশ লাখ কৃষকের। এক প্রকার কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আগামী দিনে কিভাবে আবাদ শেষ করবেন, তা নিয়ে যত দুশ্চিন্তা তাদের। সার ও ডিজেলের এতটা মূল্যবৃদ্ধিতে চলতি আমন এবং সামনের শীত মৌসুমে সবজির আবাদ হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা অত্র এলাকার কৃষকদের। কৃষি অফিস থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ঠাকুরগাঁও জেলার ৫ উপজেলায় প্রায় ৮০ হাজার ডিজেলচালিত স্যালো মেশিন রয়েছে। এর মধ্যে গভীর ও অগভীর নলকূপ রয়েছে। ডিজেলচালিত ছাড়াও বিদ্যুৎচালিত নলকূপ রয়েছে ১০ হাজারের বেশি। সদর উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় প্রায় ১৮ হাজার, রাণীসংকৈল উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার, হরিপুর উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার ও পীরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার ডিজেলচালিত স্যালো মেশিন রয়েছে। এসব স্যালো মেশিনর আওতায় গড়ে ১৫ বিঘা জমি চাষ হয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। জেলার ৫ উপজেলায় স্যালো মেশিনের আওতায় এক লাখ ৩ হাজার হেক্টরের মতো জমি চাষ হয়। চলতি আমন মৌসুমে চাহিদামতো বৃষ্টি না হওয়ায় যশোরের কৃষাণ-কৃষাণীরা শেষ পর্যন্ত স্যালো মেশিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। অধিকাংশ জায়গায় সেচের পানি দিয়ে আমন ধান রোপণ শুরু করেছেন কৃষকেরা। যখন আমন চাষ নিয়ে কৃষাণ-কৃষাণী ব্যস্ত সময় পার করছেন ঠিক সেই সময় আকস্মিকভাবে বেড়েছে সার ও ডিজেলের দাম। আর এ কারণেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন জেলার কৃষকেরা। আমন চাষের পাশাপাশি আরো বেশি দুশ্চিন্তা ভর করেছে শীতকালীন সবজিচাষিদের মধ্যে। কারণ শীতকালে সবজি চাষ সম্পূর্ণ সেচের ওপর নির্ভর করতে হয়। যেভাবে সার ও ডিজেলের দাম বেড়েছে তাতে সবজি চাষে কয়েকগুণ খরচ বেড়ে যাবে বলে চাষিরা মনে করছেন। ব্যাপকভাবে খরচ করে উৎপাাদিত সবজি কাঙ্খিত দামে বিক্রি করতে পারবেন কি না সেই হিসাব কষছেন চাষি। বর্তমানে বৃষ্টির যে অবস্থা, সেই সাথে সার ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে কৃষকদের মাঝে। কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় ঠাকুরগাঁও থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী এ বছর জেলায় এক লাখ ৩ হাজার ১শ' ৩৩ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১০ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় প্রায় এক লাখ হেক্টর জমিতে আমন রোপন করা হয়েছে বলে উপপরিচালক জানিয়েছেন। এ দিকে কৃষাণ-কৃষাণীরা বৃষ্টির জন্য মাসের পর মাস হাহাকার করছেন। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে কাঙ্খিত বৃষ্টি না হওয়ায় মাঠঘাট ফেটে চৌচির হয়ে যায়। পানির অভাবে চাষিরা মাঠে নামতে পারেননি আমন চাষের জন্য। যে সময় আমন চাষ নিয়ে কৃষকের ব্যস্ত থাকার কথা, ঠিক সেই সময় অলস সময় পার করেছেন তারা। আগস্ট মাসের শুরুতে পরপর দুই দিনের বৃষ্টিতে চাষিরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পান। তারা আমন ধান রোপণ শুরু করেন। কিন্তু এটি স্থায়ী হয়নি। কারণ আবারো বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে লাখ লাখ চাষি সেচের ওপর নির্ভর হয়ে পড়েছেন। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উত্তর পাড়িয়া তিলকড়া গ্রামের তহিরুল ইসলাম নামে এক কৃষক বলেন, স্যালো মেশিনের ওপর নির্ভর করে বোরো ও সবজির আবাদ করতে হয়। এ বছর আমনেও সেচ দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় হঠাৎ করে সার ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বঙ্গোভিটা গ্রামের জিল্লুর রহমান নামে এক কৃষক বলেন, সার ও ডিজেলের দাম এতটা বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামীতে সব ধরনের আবাদ হুমকির মুখে পড়বে। কারণ চাষির খরচ উঠবে বলে মনে হয় না। এ বিষয়ে ঠাকুরগাও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক বলেন, সার ও ডিজিলের দাম বৃদ্ধিতে কৃষিতে কিছুটা হলেও প্রভাব পড়বে। একইভাবে পণ্যেরও দাম বাড়বে। তবে সরকার নানাভাবে কৃষককে প্রণোদনা দিচ্ছে। এ কারণে তারা তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়তো হবেন না। আগামীতে বিভিন্ন আবাদে প্রণোদনা বাড়তে পারে। ফলে যেভাবে ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে ঠিক সেভাবে ক্ষতি হবে না।

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@thakurgaon71.com

বাংলাদেশ বিভাগের অন্যান্য খবর