বালিয়াডাঙ্গীর সাকিল হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরো ২ আসামীকে গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক ০২ অক্টোবর, ২০২২ ১৯:৫২ বাংলাদেশ ৫৫৫
বালিয়াডাঙ্গীর সাকিল হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরো ২ আসামীকে গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়ন মৎস্যজীবিলীগের সভাপতি সাকিল আহম্মেদ হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার তদন্তপ্রাপ্ত আরো ২ আসামীকে পুলিশ গতকাল গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলার বিশ্বামপুর হলদিবাড়ী গ্রামের তসলিম উদ্দীনের ছেলে মমতাজ আলী (৫০), একই গ্রামের আব্দুল কাদেরের মেয়ে সোহাগী (২৩)। পুলিশ আসামীদেরকে ঠাকুরগাঁও চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারকের নিকট হাজির করলে আদালতের বিচারক তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করে। উল্লেখ্য যে, মামলার ৪ আসামীকে র‌্যাব-১০ ঢাকায় গ্রেফতার করেছে। ঠাকুরগাঁওয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের মৎস্যজীবীলীগ নেতা শাকিল হত্যার মামলার আসামীদের ছায়া তদন্ত ও গয়েন্দা নজরদারীর ভিত্তিত্বে র‌্যাব-১০ ঢাকা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দেলোয়ার হোসেন (৪৫) ও তার ছেলে শামীম হোসেন (২০) এবং ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে হাবিব হোসেন (২৪) ও জসিম উদ্দীনকে (২৬) সহ একই পরিবারের ৪ আসামীকে গ্রেফতারের বিষয়টি সংস্থাটি এক প্রেস বিফ্রিং এর মাধ্যমে নিশ্চিত করেন। ঢাকা র‌্যাব-১০ এর কোম্পানী কমান্ডার মোঃ সাইফুর রহমান এক প্রেস বিফ্রিং উল্লেখ্য করে বলেন, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়ন মৎসজীবীলীগের সভাপতি শাকিল আহম্মেদ হত্যার মামলার আসামীদের ছায়া তদন্ত ও গয়েন্দা নজরদারীর ভিত্তিত্বে র‌্যাব-১০ এর অভিযানিক একটি দল শনিবার রাজধানীর বংশাল এলাকা থেকে প্রথমে হলদিবাড়ী হাট জাম্মে মসজিদের ইমাম দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হেমায়েতপুরের রিশিপাড়া থেকে হাবিব হোসেনকে ও তাদের দেওয়া তথ্য মতে নবীনগর থেকে শামীম হোসেনকে এবং তার দেওয়া তথ্য মতে জসিম উদ্দীনসহ ৪ আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলার বিশ্বমপুর গ্রামের তসলিম উদ্দীনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন ও তার ছেলে শামীম হোসেন, তসলিম উদ্দীনের ছেলে জসিম উদ্দীন ও তার ভাই হাবিব হোসেন। তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এস আই মাসুদ ৪ আসামীকে ঠাকুরগাঁও চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারকের নিকট হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। পুলিশের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট্য আদালতের বিচারক ৩ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা সাকিল হত্যার ঘটনার কথা শীকার করেন। রিমান্ড গ্রহণ শেষে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গীর মৎস্যজীবীলীগ নেতা শাকিল হত্যা ঘটনায় জড়িত থাকার তদন্তপ্রাপ্ত মমতাজ ও সোহাগী নামের আরো ২ জনকে আটক করে আদালতের বিচারকের নিকট হাজির করে। এনিয়ে মোট ৬ আসামী গ্রেফতার হয়েছে। মামলার সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ভানোর ইউনিয়নের হলদিবাড়ী হাট জাম্মে মসজিদের ইমাম দেলোয়ার হোসেন গত ১৯ আগষ্ট শুক্রবারে জুমার নামাজের আগে খুতবায় মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কূটক্তিমূলক একটি বয়ান উচ্চারণকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ জানায় এবং নতুন ইমাম নিয়োগ করে। এই ঘটনায় গত ৩ সেপ্টেম্বর বিকালে হলদিবাড়ী হাট ভূমি অফিস সংলগ্ন আওয়ামীলীগের সমর্থীত জামাতবাসী দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে শাকিলের বড় ভাই সাঈদ আলমসহ ৩ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে ভানোর ইউনিয়ন মৎসজীবীলীগের সভাপতি শাকিল আহম্মেদ গুরুত্বর আহত হলে তাকে দিনাজপুর এম রহিম মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিদিন সকালে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এঘটনায় নিহতের বড় ভাই ও ভানোর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সাঈদ আলম বাদী হয়ে ভানোর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামসহ ২০ জনকে আসামী করে একটি মারপিটের মামলা করলে। পরবর্তীতে শাকিলের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রুপান্তরিত করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামীরা পলাতক থাকায় তাদেরকে গ্রেফতারে র‌্যাব ও পুলিশ অভিযান পরিচালনা করতে থাকলে র‌্যাব-১০ ঢাকা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে একই পরিবারের মামলার ৪ আসামীকে গ্রেফতার করে আসামীদের বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়। অপরদিকে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা মৎসজীবীলীগের আয়োজনে ভানোর ইউনিয়ন মৎসজীবী লীগের সভাপতি শাকিল হত্যার বিচারের দাবীতে এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীরা ইতিপূর্বে বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তা শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। শাকিলের এক ভাই মামলার বাদী সাঈদ আলম বলেন, মামলার এক সপ্তাহ পেরিয়ে যাবার পর র‌্যাব-১০ রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪ আসামীকে এবং দুই সপ্তাহ পরে ২ আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ খায়রুল আনাম বলেন, সাকিল হত্যা মামলার আসামী পিতা- পুত্র এবং পুলিশি তদন্তে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জন সহ মোট ৬ আসামীকে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটককৃতদের ঠাকুরগাঁও চীফ জুডিশীয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারকের নিকট হাজির করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালতের বিচারক ৩ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করে। রিমান্ড শেষে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। বাকী আসামীদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা ও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
প্রিন্ট