বালিয়াডাঙ্গীতে ভূমিদস্যুদের হামলায় শ্বাশুড়ি-বৌমা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের নাগেশ্ববাড়ী মৌজায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভূমিদস্যুদের হামলায় রাবেয়া বেগম (৬০) ও লাবলী বেগম (২৫) নামের শ্বাশুড়ী ও বৌমা গুরুতর আহত হয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বামুন কুমার গ্রামের নাজাতুল ইসলামের ছেলে নাসির উদ্দীন ও মরহুম আব্দুল বাসেদের ছেলে মন্টু ভোগদখলীয় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের নাগেশ্ববাড়ী মৌজার ২১ নং জেএল ভূক্ত ২৪ নং খতিয়ানের ৩৪ শতক ও ৭৪ নং খতিয়ানের ২৬.৫০ শতক এবং ২৪ নং খতিয়ানের ১৭ শতক মিলে ৮৭.৫০ শতক জমি পৈত্রিক সূত্রে ও কবল খরিদ মুলে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসতে থাকে।
এরই মাঝে একই গ্রামের মরহুম বশির উদ্দীনের ছেলে আব্দুর রহমান ও আব্দুর রহমানের ছেলে তমির উদ্দীন, ফইম উদ্দীন, দেলোয়ার হোসেন, ইয়াসিন আলীর ছেলে মাঝহারুল ইসলাম, কাউসার আলী, মৃত ইসলাম উদ্দীনের ছেলে, ইয়াসিন আলীসহ তাদের লোকজন মিলে গত ১৯জুলাই দুপুর ১২ টায় নাসির উদ্দীনের রোপকৃত মেহগুনি শিশু দুটি গাছ ভেঙ্গে দেয়। এই ঘটনায় নাসির উদ্দীন ওইদিন বালিয়াডাঙ্গী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বালিয়াডাঙ্গী থানার এএসআই সফিউল আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে আসার পর বিবাদীরা আবারো নাসির উদ্দীনের অপর একটি জমিতে আমন রোপার চারা রোপন করতে গেলে এক সময় তাদের বাধা দিলে তারা ফিরিয়ে যায়। তিনদিন পর গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টায় নাসির উদ্দীন ও তার লোকজন মিলে তার নাগেশ্ববাড়ী মৌজার ২১নং জেএল এর ২৪ নং খতিয়ানের ১০০৭নং দাগের ১৭ শতক ভোগদখলীয় জমিতে আমন রোপন করিতে থাকিলে উক্ত ভূমিদস্যুরা তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমন রোপা রোপনে বাধা সৃষ্টির মাঝে তার ভোগদখলীয় জমিতে আমন রোপার চারা রোপন করে।
অপরদিকে, বামুনকুমার গ্রামের মরহুম আব্দুল বাসেদের ছেলে মন্টু কবলা ও খরিদকৃত ভোগদখলীয় ২১ নং জেএল এর ৩০৫ নং খতিয়ানের ৫৯ নং দাগের ৩৪ শতকের মধ্যে ১৫ শতক জমিতে এক সপ্তাহ আগে আমন রোপার চারা রোপন করে থাকলে ভূমিদস্যুরা গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টায় তার উক্ত জমিতে রোপনকৃত আমন রোপার চারা তুলে দিতে থাকলে তাদের এহেন কর্মকান্ডে বাঁধা দিতে গেলে একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির সৃষ্টি হলে ভূমিদস্যুরা ক্ষিপ্ত হয়ে মন্টুর মা রাবেয়া বেগম ও তার স্ত্রী লাবলী বেগমকে এলোপাথারী ভাবে মারপিট করে। এতে তারা গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলে পরে থাকলে তাদেরকে উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসে ভর্তি করে। এলাকার একটি কু-চক্রী মহল বিষয়টি ভিন্ন দিকে প্রবাহের জন্য ভূমিদস্যুরা আটোয়ারী থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ করে। ভূমিদস্যুদের একর পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে নাসির উদ্দীন ও মন্টু পরিবার বর্তমানে আতংকের মধ্য দিন যাপন করছে।