weather ২৭.৯৯ o সে. আদ্রতা ৭৪% , রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বালিয়াডাঙ্গীতে প্রধান শিক্ষিকা সরকারি বরাদ্ধের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশ : ১৪-০৯-২০২২ ১৫:৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব¦ প্রতিবেদকঃ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ১৩১ নং কলন্দা তালদিঘী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০২০-২১ অর্থ বছরের ক্ষুদ্র মেরামতের ও স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্লান্ট (স্লিপ) ফান্ডের ও ক্ষুদ্র মেরামত এবং প্রাক প্রাথমিকের দুই লক্ষ্য ৬০ হাজার টাকা এবং গত ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের সরকারী বরাদ্ধকৃত স্লিপের ও প্রাক প্রার্থমিকের ৬০ হাজার টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগ উঠেছে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাহেদা খাতুনের বিরুদ্ধে। অভিভাবকদের সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের কলন্দা তালদিঘী সরকারী প্রার্থমিক বিদ্যালয়ের সরকারী বরাদ্ধকৃত ২০২২ সালের জুন মাসে ক্ষুদ্র মেরামতের ২ লক্ষ টাকা, স্লিপের ৫০ হাজার টাকা এবং প্রাক প্রার্থমিকের ১০ হাজারসহ মোট ২লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাহেদা খাতুন বিভিন্ন দোকানের নামের ভূয়া মেমু সংগ্রহ করে তিনি এক হাতের লেখায় ভাউচার তৈরী করে উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা করে বরাদ্ধকৃত টাকা উত্তোলন করে এযাবৎ কাজ না করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলন্দা তালদিঘী গ্রামের কয়েকজন অভিভাবক জানান, গত জুন মাসে প্রধান শিক্ষিকা সাহেদা খাতুন সরকারী বরাদ্ধকৃত কলন্দা তালদিঘী বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের ২ লাক্ষ ৬০হাজার টাকার কাজ না করে তিনি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এসব টাকা বরাদ্দ প্রাপ্তি এবং ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির সংশ্লিষ্টতার বিধান থাকলেও প্রধান শিক্ষিকা সাহেদা খাতুন ভূয়া ভাওচারের মাধ্যমে গোপনে উপজেলা প্রকৌশলী মইনুল ইসলামের সহযোগীতায় কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে শিক্ষা অফিসে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করার পর সরকারী বরাদ্ধের ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের স্লিপ এর ৫০ হাজার টাকা এবং প্রাক প্রাথমিকের ১০ হাজার টাকা দিয়ে শিক্ষা সামগ্রী ক্রয় করার কথা থাকলেও তা ক্রয় না করে তিনি নিজেই আত্মসাৎ করে। তৎকালিন সময়ে করোনা ভাইরাসের কারনে দীর্ঘদিন যাবত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাহেদা খাতুন বিদ্যালয়ের কোন কাজ না করে শিক্ষা অফিসে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করে বরাদ্ধ প্রাপ্ত স্লিপের ও প্রাক প্রার্থমিকর ৬০হাজার টাকা নিজেই আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক ধীরেন চন্দ্র বলেন, সরকারীভাবে প্রতি বছরেই বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের বরাদ্ধ আসে কিন্তু বিদ্যালয়ের কোন কাজ হয়না। এই বরাদ্ধের টাকা হিসাব কে নেবে! এযেন দেখার কেউ নেই। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা সাহেদা খাতুনের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের কোন সদূউত্তর দিতে পারেনি। এদিকে ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় তার সাক্ষাতকার নেওয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর সরেজমিনে কাজ পরিদর্শন করে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। তারপর সংশ্লিষ্ট কাজের বিল উত্তোলন করতে পারবে। কিন্তু কাজ শেষ না হলেও উপজেলা প্রকৌশলী মইনুল ইসলাম উপজেলা শিক্ষা অফিসে কাজ শেষ হয়েছে এমন প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে প্রতিবেদকের কাছে এ বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। এব্যাপারে বোয়ালধার ক্লাষ্টারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আজম হক রয়েল বলেন, কয়েকদিন আগে কলন্দা তালদিঘী সরকারী প্রার্থমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করি। ওই সময় সরকারের বরাদ্ধকৃত টাকা যথাযথাভাবে কাজ করার জন্য প্রধান শিক্ষিকা সাহেদা খাতুনকে নিদের্শ দিয়ে এসেছি এর পরও যদি তিনি কাজ না করে থাকে তাহলে ওই প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এবিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অতুল চন্দ্র য়ায় এর নিকট জানতে চাও হলে তিনি বলেন, কলন্দা তালদিঘী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা গত জুন মাসে সরকারী বরাদ্ধের টাকা উত্তোলন করেছেন। ওই বিদ্যলয়ের প্রধান শিক্ষিকা যদি কাজ না করে সরকারী বরাদ্ধের টাকা উত্তলন করে আত্মসাৎ করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@thakurgaon71.com

বাংলাদেশ বিভাগের অন্যান্য খবর