বালিয়াডাঙ্গীতে জমি নিয়ে বিরোধে ভাইদের হাতে ভাই খুন
এ, কে আজাদ: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সনগাঁও চৌধুরীপাড়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় ভাইদের হাতে ভাই খুন। একই পরিবারের উভয় পক্ষের ৬জন গুরুতর আহত হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কামরুজ্জামান অরফে পালানু চৌধুরীর মৃত্যু হয়।
রবিবার (৯ জুলাই/২৩) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় উপজেলার সনগাঁও চৌধুরীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি একই এলাকার মরহুম হারেসুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে কামরুজ্জামান চৌধুরী অরফে পালানু (৪০)।
নিহতের স্ত্রী আশরাফুন নেহার চৌধুরী বলেন, জমি বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে আমার স্বামীর ভাইদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে আমার স্বামী কামরুজ্জামান অরফে পালানু চৌধুরী স্থানীয়ভাবে সালিশ করার পর সমাধান না পেয়ে ইতিপূর্বে স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের করেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার ভাইরাসহ আরও অজ্ঞাতনামা কতিপয় সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দা, কুড়াল, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমার বাড়ীতে এসে আমার পরিবারের লোকজনের উপর সন্ত্রসী হামলা করে। এতে আমার স্বামী কামরুজ্জামান অরফে পালানু চৌধুরী (৪০), আমি (আশরাফুন নেহার) (৩২) ও আমার মেয়ে ৬ মাসের অন্তঃসত্বা আনার কলি (২২), আমার ছেলে সারোয়ার হোসেন (১৫) গুরুতর আহত হয়েছি। আমাদেরকে উদ্ধার করে দিনাজপুর এম রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেমবার সকালে আমার স্বামী কামরুজ্জামান চৌধুরীর মৃত্যূ হয়।
আমি আমার স্বামী হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি প্রশাসনের নিকট সুষ্ঠু বিচার চাই। এমনকি আমিসহ আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্যা লাভলী আক্তার জানান, যতটুকু জানি তাদের ভাইদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। দুমাস আগে থানায় তাদের মধ্য মামলা হলে সেই মামলা বর্তমানে ঠাকুরগাঁও আদালতে চলমান রয়েছে। মূলত ওই ঘটনার জের ধরে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি নিহত হয়।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি খায়রুল আনাম জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাইদের পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় কামরুজ্জামান অরফে পালানু চৌধুরী ও তার স্ত্রী, মেয়ে এবং ছেলেসহ ৬জন গুরতর আহত হলে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে এনে ভর্তি করে। তাদের মধ্যে দিনাজপুর এম রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে কামরুজ্জামান অরফে পালানু চৌধুরী মারা যায়। সেখানে লাশের ময়না তদন্ত সমপন্ন করা হয়।
সংঘর্ষের সাথে জড়িত অপর দুই ভাই লুৎফর রহমান (২৮) ও আলমগীর হোসেন (৩২) বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন থাকায় তাদেরকে বর্তমানে পুলিশের নজরদারীতে রাখা হয়েছে। হত্যাকাÐে জড়িতদের আটকের জন্য আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।