দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ কোন ষড়যন্ত্র করে পার পাবে না- নৌ-প্রতিমন্ত্রী
জয়ন্ত রায়, বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর): গত ৬ডিসেম্বর বোচাগঞ্জ পাক হানাদার মুক্ত দিবসের আলোচনা সভায় বিকেল বেলা
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী জননেতা খালিদ মাহমুদ
চৌধুরী এমপি বলেছেন, আজ বাংলাদেশের মানুষ স্বপ্নের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে।
আর একটি স্প্যান বসানো হলে পদ্মাসেতু দৃশ্যমান হবে । বঙ্গবন্ধু কোন সাধারণ
ব্যক্তি নয়,তিনি আমাদের জাতির পিতা। তাই জাতির পিতাকে সম্মান দেখানোর জন্য
অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো আমাদের দেশেও ভাষ্কর্য তৈরি হবে। এই ভাষ্কর্য
নিয়ে একাত্তরে পরাজিত শক্তিরা ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে পাকিস্তানের স্বপ্ন
বাস্তবায়ন করার জন্য এখনও স্বপ্ন দেখে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, আজকে ভাষ্কর্যের
নামে তারা বঙ্গবন্ধুর ওপর আক্রমণ করতে চায়। ভাবতে অবাক লাগে, যেই বাংলাদেশ
বঙ্গবন্ধুর আদর্শের উপর দাঁড়িয়ে আছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে যেই
বাংলাদেশের পতাকা সমগ্র পৃথিবীতে পতপত শব্দ করে উড়ছে। সেই জায়গায় তারা
বঙ্গবন্ধুকে আঘাত করতে চায়!
বঙ্গবন্ধুর
ভাস্কর্যবিরোধীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, তারা জানেনা, বাংলাদেশের
জন্মদাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, যতদিন আমার
জাতীয় পতাকা উড়বে, যতদিন আমরা গাইব- আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি;
ততদিন বঙ্গবন্ধু অমর হয়ে থাকবে। তিনি অমরত্ব লাভ করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে কেউ
হত্যা করতে পারবে না।
নব্বই
দশকের এই ছাত্রনেতা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে কেউ হত্যা করতে পারেনাই। জিয়াউর
রহমান পারে নাই, এরশাদ পারে নাই, খালেদা জিয়াও পারে নাই, ওই পাকিস্তানিরাও
পারে নাই। বঙ্গবন্ধু কোন ব্যক্তি নন, বঙ্গবন্ধু একটি আদর্শ, একটি
প্রতিষ্ঠান। বঙ্গবন্ধু এই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা, জাতির
পিতা।ভাস্কর্যবিরোধীদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, আজকে কোথায় খালেদা জিয়া,
কোথায় সেই পাক হানাদার বাহিনী, কোথায় নিজামী, গোলাম আজম, সাকা চৌধুরী,
কামারুজ্জামান, কাদের মোল্লা। অপরাধের কঠোর জবাব দেয়া হবে।বাংলাদেশের
উন্নয়নের পেছনে রয়েছে জাতির পিতার আদর্শ ও তার রেখে যাওয়া দিক নির্দেশনা-
এমন মন্তব্য করে।
তিনি আরো
বলেন, এক কি.মি. রাস্তা উন্নয়নের জন্য দাতাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো। সেই
বাংলাদেশ আজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারন করে বিশ্বে মাথা উঁচু করে
দাঁড়িয়েছে। আজকে আমাদের মর্যাদার স্মারক রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র,
পদ্মাসেতু আজকে আমাদের স্বপ্নের ঠিকানায় চলে গেছে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র
বন্দরের চুক্তি হয়ে গেছে। বন্দরের কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। পায়রা বন্দর,
মোংলা বন্দরের উন্নয়ন এগেয়ে চলছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশ দিয়ে রেলসেতুর
ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়েছে। এভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন এগিয়ে যাচ্ছে।
এগুলো সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও তার রেখে যাওয়া
দিক নির্দেশনার কারণে।
উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা ছন্দা পালের সভাপতিত্বে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন
বোচাগঞ্জ উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. জাফরউল্লাহ, সেতাবগঞ্জ
পৌর মেয়র আব্দুস সবুর, বোচাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফছার
আলী প্রমুখ। বিকেল বেলা অালোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের
আয়োজন করা হয়।
এদিকে মন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী,
মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে উপজেলার ৬নং রনগাও ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামে
ভূমিহীন ও গৃগহীন পরিবারের জন্য গৃহনির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের
এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।