ঠাকুরগাঁওয়ে ১৫ কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা লিচু চাষিদের
গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ দেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে সব ধরনের ফসল ও মৌসুমি ফলের জন্য এ জেলার সুনাম সর্বত্রই। লিচুও এর ব্যাতিক্রম নয়।
দেশের অন্যান্য জেলার লিচুতে পোকা ধরলেও এখানকার লিচুতে তা হয়না। মধুমাসের মিষ্টি ফল লিচু। এ সময় গাছে গাছে দোল খায় রঙ্গিন লিচু। এ জেলার গোলাপি, চায়না থ্রি, বেদানা, বোম্বাই, কাঁঠালিসহ বিভিন্ন বাহারি নামের লিচুর কদর দেশজুড়ে। এর প্রধান কারণ দেশের বিভিন্ন জেলার লিচুতে পোকা থাকলেও ঠাকুরগাঁও জেলার লিচু বরাবরই এর ব্যতিক্রম। কিন্তু এ বছর লিচু পাকার আগ মুহূর্তে ঘনঘন বৃষ্টিতে বাগানেব বেশিরভাগ লিচু গাছ থেকে ঝড়ে পড়ে। তাছাড়া টানা বৃষ্টিপাতের কারণে হরমোন জাতীয় কীটনাশক স্প্রে করা সম্ভব হয়নি। ঘনঘন বৃষ্টিপাতের কারণে এ বছর ঠাকুরগাঁওয়ে লিচুর ফলনে বিপর্যয় নেমে
এসেছে। একদিকে গাছ থেকে লিচু ঝড়ে পড়ায় এবং অসময়ে ফল পেকে যাওয়ায় লিচু
চাষিরা পড়েছে লোকসানের মুখে। তবে কৃষি বিভাগের মতে, বাজারে দাম ভাল থাকায়
এবং পরিবহন সমস্যা কেটে যাওয়ায় চাষিরা লাভবান হবেন। অনেক বাগানে অসময়ে লিচু পেকে যাওয়ায় ব্যয় বাড়ার ভয়ে চাষি ও ব্যাপারীরা লিচু সংগ্রহ শুরু করে দিয়েছেন।
এ অবস্থায় লিচু চাষিরা বাগানের ভাড়া, পরিচর্যাসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় উঠানো সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা
প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে বাজারে প্রতি হাজার লিচু যে দামে বিক্রি হচ্ছে
তাতে চাষি ও বাগান মালিকরা অনেক টাকা লোকসান গুনবেন। টাকার অংকে তা ১৫
কোটি টাকারও বেশি হবে বলে ধারণা জেলার চাষি ও বাগান মালিকদের।
লিচু বাগান
মালিক ও চাষিরা জানান, এ বছর শুরুর দিকে আবহাওয়া ভাল থাকলেও শেষের দিকে ঘনঘন বৃষ্টিতে অনেক বাগানের লিচুই গাছ থেকে ঝড়ে পড়ে। বৃষ্টির কারণেও ফলের আকার বড় হয়নি। আকর্ষণীয় রং না হওয়ায় বাজারে
তেমন চাহিদা নেই। তাতে লাভের আশায় বাগান ভাড়া নিয়ে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী
লোকসান গুনবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি
মৌসুমে ঠাকুরগাঁও জেলায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ২ হাজার বাগানে লিচুর
চাষ হয়েছে। আর লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৭ হাজার ১০০ টন। ফলন
আশানুরূপ হলে লিচু বিক্রি করে এ জেলার চাষিরা প্রায় ৩০ কোটি টাকা আয় হতো।
কিন্তু ফলন অর্ধেক কমে যাওয়ায় চাষিরা প্রায় ১৫ কোটি টাকা লোকসান গুনার আশঙ্কায়
রয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফতাব
হোসেন জানান, মৌসুমের এ পর্যায়ে ঘন ঘন বৃষ্টি হলেও ফলন খুব একটা খারাপ
হয়নি। মাটির গুণাগুণের কারনে এখানকার লিচুতে পোকা না হওয়ায় আমাদের এসব
লিচুর চাহিদা সর্বত্রই। এছাড়াও পরিবহন সংকট কেটে যাওয়ায় এবং বাজারে দাম ভাল থাকায় চাষিরা পূর্বের বছরের ন্যায়
লাভবান হবেন বলে আশা করছি।