উত্তরাঞ্চলে গ্রীষ্মে শিশির-কুয়াশা!

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৬ এপ্রিল, ২০২২ ১৪:৫৭ বাংলাদেশ ৬১৮
উত্তরাঞ্চলে গ্রীষ্মে শিশির-কুয়াশা!
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, রংপুুর জেলাজুড়ে গ্রীষ্মকালে দেখা গেছে শিশিরবিন্দু ও কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর! শীতকালের দৃশ্য গরমকালে দেখে অবাক ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। শনিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল ৭টা পর্যন্ত এই দৃশ্য দেখা যায় ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, রংপুুর জেলাজুড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত দুই দিনে এই এলাকায় হালকা বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু দিনে রয়েছে কড়া রোদ। আবার ভোরে কুয়াশা। তবে দুর্যোগ বিশেষজ্ঞের মতে এটা প্রকৃতির স্বাভাবিক বিষয়। দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র সহকারী তোফাজ্জুর রহমান বলেন, গরমকালে শিশির কিংবা কুয়াশার সন্ধ্যা ও ভোর দেখে ভয়ের কিছু নেই। এটা প্রকৃতির স্বাভাবিক বিষয়। মাঝে-মধ্যেই বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পরে অনেক সময় কুয়াশা পড়ে। এতে ক্ষতির কোনো আশংকা নেই, বরং এতে আম, লিচুসহ অন্যান্য ফলন ভালো হবে। অপরদিকে রোদে প্রখরতা আছে। তাই পরিবেশে এই উষ্ণতা দেখা যাচ্ছে। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উত্তর পাড়িয়া তিলকড়া গ্রামের মরহুম মকবুল হোসেনের ছেলে তহিরুল ইসলাম বলেন, এবারই প্রথম দেখলাম গরমকালে শীতের মতো শিশির আর কুয়াশা। এই সময় পাখার বাতাসের জন্য অস্থির হতে হতো আর এখন কম্বল গায়ে দিয়ে ঘুমাতে হয়। হরিপুর উপজেলার আমগাঁও জামুন গ্রামের পারুল আক্তার বলেন, প্রথম দেখেছি গ্রীষ্মকালে শীতের মতো শিশির কুয়াশা। রাতে রীতিমতো কাঁথা গায়ে দিয়ে ঘুমোতে হচ্ছে। অন্যান্য বছর এই গরমকালে পাখার বাতাসের জন্য অস্থির হয়ে যেতে হয়। কালমেঘ আর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহীল বাকী বলেন, সকালে হাঁটতে বেরিয়ে দেখি শীতের সকালের মতো পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের সারাজীবন পড়িয়ে এসেছি বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ দুই মাস গ্রীষ্মকাল। কিন্তু এই সময় দেখছি কুয়াশা। ষড়ঋতুর বাংলা পরিবর্তন হচ্ছে কি-না কে জানে? গরমে শীত নিয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ মোজাম্মেল হক বলেন, অসময়ে কুয়াশা তাই সবাইকে আরো বেশি সতর্ক থাকতে হবে। ঠান্ডা-গরমে সর্দি, কাশি, গলাব্যথা যাতে না হয় সেই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এলাচ-লবঙ্গ মিশিয়ে গরম পানি খাওয়া বা গড়গড়া করা যেতে পারে। যাতে করে এই কুয়াশা করোনা ভাইরাস ছড়াতে না পারে।
প্রিন্ট