logo

বালিয়াডাঙ্গীতে হারিয়ে যাচ্ছে ঢেমশি চাষ

Published:11 Feb 2024, 03:48 PM

বালিয়াডাঙ্গীতে হারিয়ে যাচ্ছে ঢেমশি চাষ

এ, কে আজাদ: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় হারিয়ে যাচ্ছে ঢেমশি চাষ। এক সময় এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে ঢেমশি চাষ হতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই শস্যটির নামই যেন কেউ জানে না। এর কারণ ঢেমশি চাষে লাভ কম, উৎপাদনও কম। বর্তমানে আলু, ভুট্টা, বাদাম চাষে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা ঢেমশি চাষের কথা ভুলে যেতে বসেছে।
ঢেমশি স্বল্প জীবনকালের একটি বিশেষ ফসল। বছরের যেকোনো সময়ে পতিত জমি অথবা যেসব জমিতে ধানের আবাদ সম্ভব হয় না, সেসব জমিতে ঢেমশি চাষ করা যায়। সাথী ফসল হিসেবেও ঢেমশি আবাদ করা যায়।
কৃষকরা বলেন, ঢেমশি চাষে রাসায়নিক সারের দরকার হয় না, পোকামাকড়ের আক্রমণও খুব কম। তাই বালাইনাশক লাগে না। চর এলাকার মাটি এবং বেলে দো-আঁশ মাটিতে ভালো আবাদ হয় ঢেমশি। ঢেমশি নিজেই জমির আগাছা নষ্ট করে ফেলে। সে কারণে আলাদা করে আগাছা দমনের প্রয়োজন পড়ে না। ঢেমশির বীজ বপনের সময় হলো কার্তিক অগ্রহায়ণ মাস। জৈবসার ব্যবহার করতে পারলে ফলন আরো ভালো হয়। প্রতি একর জমিতে চাষের জন্য বারো কেজি বীজের দরকার পড়ে। সাধারণত একরপ্রতি এক টন পর্যন্ত ঢেমশি উৎপাদন হতে পারে। আবার একই সময়ে এর ফুল থেকে মধু উৎপাদন সম্ভব। সেক্ষেত্রে প্রায় ১২০ কেজি পর্যন্ত মধু প্রতি একরে পাওয়া যায়।
গাছে ফুল আসার আগ পর্যন্ত ঢেমশি পুষ্টিকর শাক হিসেবেও খাওয়া যায়। সার কিংবা কীটনাশক লাগে না বলে এর প্রতি নীতিনির্ধারকদের আগ্রহও কম। এ ছাড়া আমাদের দেশে খাদ্যের ক্ষেত্রে পুষ্টির বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায় না। ফলে ঢেমশির মতো একটি পুষ্টিকর ফসলের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ নেই বললেই চলে। ঢেমশি চাষি সাগরশীল বলেন, এই ফসলটি খুব সহজেই চাষ করা যায়। জমি চাষ করে বীজ বুনে রাখলেই ফসল পাওয়া যায়। খুব বেশি অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন পড়ে না।

© ঠাকুরগাঁও ৭১

সম্পাদকঃ ফইজুল ইসলাম উপদেষ্টা: অধ্যক্ষ (ভাঃপ্রাঃ), মো: মাজহারুল ইসলাম সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ঠাকুরগাঁও জেলা।

ফোন : +৮৮০১৭১৭৮০১৪৪০, ইমেইল : info@thakurgaon71.com