• weather ২৪.৯৯ o সে. আদ্রতা ৫০%
  • শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
  • ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
img

বালিয়াডাঙ্গীতে সরিষার বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

প্রকাশিত : ২০২৪-০২-০৭ ১০:১১:৪২
photo
এ, কে আজাদ: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে অধিকাংশ সরিষাক্ষেতে ফুল ফুটেছে। সুন্দর বীজও আসতে শুরু করেছে। এতে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন চাষিরা। লাভের আশায় তাদের মুখে এখন হাসি।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় জমির পর জমিতে সরিষার আবাদ দেখা গেছে। মাঠের পর মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য। ফুলে মধু আহরণে ভিড় করছে মৌমাছি। আমন ফসল ঘরে তোলার পর স্বল্প সময়ে সরিষা একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় এখন বাণিজ্যিকভাবে সরিষা চাষ অতিরিক্ত ফসল হিসেবে সরিষা চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। 
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১হাজার ৬শ' ৭০ হেক্টর চাষাবাদি জমির মধ্যে চলতি বছরের মৌসুমে সরিষা চাষ হয়েছে ১হাজার ৪শত ৩৮ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় এ বছর উপজেলায় জমিতে সরিষা চাষাবাদের পরিমাণ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছর কৃষকরা উপজেলার, চাড়োল, ধনতলা, পাড়িয়া, আমজানখোর, বড়পলাশবাড়ী, ভানোর, দুওসুও ও বড়বাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে টরি ৭, বারি ৯, ১৪, ১৫, ১৭, ১৮ ও বিনা ৪, ৯, ১০, ১৪, ১৫, ১৭, জাতের সরিষা চাষ করেছে। হেক্টর প্রতি সরিষা উৎপাদন হবে প্রায় ৭/৮ টন। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সরিষা চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে করে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ফুটেছে হাসির ঝিলিক।
ভানোর ইউনিয়নের ভানোর নেংটিহাড়া গ্রামের সরিষা চাষী এ্যাডভোকেট বাবুল ইসলাম বলেন, আমি ২ একর জমিতে সরিষা চাষ করেছি। বিঘা প্রতি ৪/৫ হাজার টাকা খরচ করি। আশা করি বিঘা প্রতি ৮ মন সরিষা পাওয়া যাবে, যার বাজার মূল্য হবে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। কম খরচ ও অল্প দিনের পরিচর্যার মাধ্যমে অধিক লাভবান হওয়ার আশায় সরিষা চাষে ঝুকে পড়ি। 
বড়বাড়ী কাশিডাঙ্গা গ্রামের সরিষা চাষী মোজাম্মল হক বলেন, কয়েক বছর আগে তাদের জমি পরিত্যক্ত থাকতো, কিন্তু বর্তমানে উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে তারা এখন বোরো ধানের আগে জমিতে সরিষা চাষ করে আসছি। সরিষার ফুল মাটিতে পড়ে জমির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়। তিনি আরও বলেন, আমি ৫ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। বিঘা প্রতি ৪/৫ হাজার টাকা খরচ করেছি। আশা করি তা থেকে প্রায় বিঘা প্রতি ৮ মন সরিষা পাওয়া যাবে, যার বাজার মূল্য হবে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। কম খরচ ও অল্প দিনের পরিচর্যার মাধ্যমে অধিক লাভবান হওয়া যায় সরিষা চাষে। তাই অন্যান্য সবজি চাষের পাশাপাশি কৃষকরা জমিতে সরিষা চাষ করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাজ্জাদ হোসেন সোহেল জানান, কৃষকদের যথার্থ পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য বছর ‘বারি ১৪’, ‘বিনা-৯ ও ‘বিনা-৪ জাতের সরিষা বেশি চাষ হতো। এ বছর চাষিরা যেন অধিক লাভবান হতে পারে সেজন্য ‘বারি ১৭’ এর পাশাপাশি প্রায় ৩শ জন চাষিকে সুপার কোয়ালিটি ‘বারি ১৮’ জাতের সরিষার বীজ দেওয়া হয়েছে। সারা দেশের ন্যায় কৃষকের মাঝে তেল ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ডাল, তেল, মসলা বীজ উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় কয়েকটি প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে  কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ সেবা দিয়েছেন। সরিষা কৃষকের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি ভোজ্য তেলের ঘাটতি পূরণেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে। কৃষকদের পরিশ্রম আর সরকারি কৃষি অফিসের সমন্বয়ে এ বছর সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

© ঠাকুরগাঁও ৭১

সম্পাদকঃ মাহাফিজুর রহমান, উপদেষ্টা: অধ্যক্ষ (ভাঃপ্রাঃ), মো: মাজহারুল ইসলাম সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ঠাকুরগাঁও জেলা।

ফোন : +৮৮০১৭১৭৮০১৪৪০
ইমেইল : info@thakurgaon71.com